আমার গর্ভে কবিতার জন্ম হয়েছিল
কলমের কালিতে জেগেছিল প্রসব ব্যথা
ব্যথা সইতে না পেরে আমি রচনা করেছিলাম
সুদীর্ঘ সুপ্রশস্ত সুবিন্যাসিত কবিতার সুবাক্য,
উপমা ছন্ধ প্রবন্ধ স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ
সব একাকার হয়ে মিশে গিয়েছিল আমার হৃদপিন্ডের সাথে।
আমি মনের গভীর অনুভূতি কালো স্মৃতি
সাদা রঙ্গের উক্তি হলুদ বিবৃতি সবাইকে
একে একে দিয়েছি ফ্যাকাসে কাগজের আকাশে স্বীকৃতি,
নিন্দ্রাহীন আমার রাত, মেঘের আঁচলে মুখ বাধা দিন
কবিতার গন্ধে বকুলতলায় রেখেছিলাম প্রিয় প্রথমার ঋণ,
প্রথমা সে এক রহস্যময়ী নারী
যার হস্তশিল্পের কারুকাজে চিরবিজয়ী আমি
অহং মনের সিংহাসনে উচ্চ পদবি আমার
চিরবিরাজমান চিরসত্য লেখনি পরিচয়
স্বর্ণাক্ষরে গাঁথা আমার কাব্য সাহিত্য।
আমি ছিলাম তুচ্ছ,
অসচ্ছ পচনশীল শীলায় তৈরী মানব
যার প্রসব বেদনা উঠেছিল গর্জে
ফলস্বরূপ গগণ কিণানায় ভেসেছিল কবিতার মুখ
নবজাতক কবিতা কচি পায়ে হেঁটে হেঁটে
রাজ করেছে অসংখ্য সাহিত্য প্রেমিকের বুকে,
কারো মনে পরিচয়ে সে প্রেম
কারো কাছে আবেগের খেলাঘর
কারো জগতে সর্বকিছু
যেথার কবির প্রসব ব্যথা অনৈশ্বর অমর।
কবি সে নয় পুরুষ, নয় সে নারী লিঙ্গ
সে শুধু মানব আকৃতিতে স্রস্টার প্রতিবিম্ব,
ধরার বুকে সে ধরে রাখে লাগামহীন মায়াকান্না
প্রসব ব্যথায় স্পর্শিত মায়ের সখা
পিতার মিত্র, জগতের মিতা,
সে জননী জনক উভয়ই
তার সন্ত্রান তার অঙ্কুরিত কবিতামালা।
No comments:
Post a Comment