Saturday, 24 January 2015

"যেতে দিও মোরে" কবিতা আবৃত্তি


অনুভূতি-৯

বেঁচে থাকার অভিশাপ নিয়ে 
আমি বেঁচে থাকতে চাই না
বরং মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গন করতে চাই।
দুই বাহু দিয়ে জড়িয়ে ধরতে চাই মৃত্যুকে
মৃত্যুর স্বাদ নিজের আর্তনাদ সব একাকার করে
নিরাকার হতে চাই মৃত্যুর বুকে মাথা রেখে।
মৃত্যুর কমল আঙ্গিস্পর্শ একবিন্দু পানির মতন
ঘড়িয়ে যাবে আমার সমস্ত অঙ্গে,
আমি নিজ অঙ্গভঙ্গি পরিবর্তন করে
নিস্তেজ হবো ক্রমশ
দেহের বিকাশ স্থীর হয়ে 
নিশ্চুপ নীল আকাশের আবরণে 
প্রিয় ফুল গোলাপের শুকনো পাঁপড়ীর মতন
উড়ে যাবো মৃত্তিকার মাতৃগর্ভে।

ভিজা বিবেক

বৃষ্টিতে বিবেক ভিজে গেছে
রৌদ্দুরে মেলিয়ে দিলাম বিবেকের হাত-পা,
যা, একটু শুকিয়ে যা,
তোকে আবার ভিজতে হবে বৃষ্টিতে
একবারে ক্লান্ত হলে চলবে না।
বারবার, শতবার, হাজার-লক্ষবার
বৃষ্টিতে ভিজবি তুই।
আমি না, তোকে ভিজাবে নিঠুর প্রকৃতি,
মানুষ, সপ্ত দেয়াল।
আমি শুধু তোকে প্রতিবার রোদে শুকাবো।

অল্প প্রেমের গল্প

অল্প প্রেমের গল্প লিখেছি
অবেগভরা কথা বলেছি
দেখেছি যা দেখেনি কখনো,
এখন আছি কেমনে বাঁচি
হৃদয় মন্দির আস্ত শুন্য।

দেবি যাকে বানিয়ে ছিলাম
তাকে ছাড়া সবই পেলাম
পেলাম না শুধু চাওয়া,
হাত তুলে চোখের কূলে
জলের আসা যাওয়া।

প্রেমের সৌত অস্থির খুব
হার মেনেছে গ্রহপতির ধূপ,
তবুও শিশু মন
মুখ চেপে হয় না চুপ।

সময় চলে মুখের কথায়
চলে না প্রেম শুধু,
যে প্রেমে প্রেমিক আমি
প্রেমিক তুমি হয়েছি আজ ভীতু।

উত্তর হতে প্রশ্ন

জীবন যোদ্ধে আমি এক পরাজিত যোদ্ধা,
নই জীবিত, নই তবু মুর্দা।
নই ভূমির আবরণে, নই ভূমির স্তরে,
নই প্রাণী প্রাণে, নই লাশ, যা হয়ে যায় মরে।
নেই আশা-ভালবাসা, নেই এক মুঠো আকাশ,
নেই কথা, নেই ব্যথা, শূন্যতায় বসবাস।
খালি লাগে শূন্যস্থানে, কোন বাক্যে বসবে সে,
তার প্রতিক্ষায় নিশি ফুরায়, জানি না তবু আসবে কে।
অচেনা শহরে আমার প্রহরে আমি মরি প্রতিদিন,
সহজ-সরল রূপ-রঙ্গে ব্যস্ত জীবন খুব কঠিন।
হেসেও হাসি না, কেঁদেও কাঁদি না, অশ্রু নিয়েছে ছুটি, 
মুখে নিয়ে নকল হাসি, মিটে গেছে সব খাঁটি।
বেঁচে আছি অভিনয়ে, মন তবু মৃত,
কথার ভীড়ে পা পৃষ্ট হয়েছি অজানিত হবে যত।
প্রশ্ন মনের দেয় না উত্তর, উত্তর দেয় প্রশ্ন,
দূঃখ নেই একবিন্দু, তবু দুঃখী কীসের জন্য ?

আমি তুমি ও প্রেম

চোখ বন্ধ করিলে দেখি তোমার চোখ,
ভালো লাগিল অন্তর-আত্মায় 
আসিল প্রেম অসুখ।
সে অসুখে ঘুম আসে না
সময় হয় না পাড়,
ভাবনার জানালা যায় খোলিয়া 
কল্পনায় দেখা পাই তোমার।
তুমি আসিয়া এক চিলতে হাসিয়া 
ভাসাইয়া দেও মোরে,
আমি উম্মাদ তোমার প্রেমে 
আসিতে চাই তোমার হৃদয় ঘরে,
ফুল হইয়া ফুটিতে চাই 
প্রভাতে তোমার দ্বারে,
বৃষ্টি আসিলে ভিজিবো আমি
লুকাবনা প্লাবনে ঝড়ে।
হাত বাড়াইয়া তুমি ধরিবে 
নিবে এক বুক শ্বাস,
সুগন্ধে মোরে না জড়িয়া ধরিলে 
হইবেনা প্রেম হ্রাস।
তোমারও বুকে প্রেম জাগিবে 
একদা আমার নামে,
সেইদিন তুমি আসিবে কাছে 
নীল রঙ্গের খামে।
আমি খোঁজিবোনা চিঠি, 
খোঁঁজিবোনা জোঁনাকি পরী
যাহা জ্বলে যায় মিটিমিটি।
আমি খোঁজিবো উষসীতে
প্রেমের দরিয়ায় খোঁজিবো 
আবারও এক চিলতে হাসি,
বলিবো শীগ্রি আমি 
আমি তোমাতে ভালবাসি।
করিবো না দেরি 
প্রেমের বিরহ লাগে না ভালো আর,
প্রেমের নিবেদন শুনিয়া তুমি
করিও না বন্ধ দ্বার,
ভালবাসিও মোরে
আমি বাসি তোমায়
না বাসিলেও অভিনয় প্রেমের 
করে যেও একবার।

শিশিরের শব্দ

একটি শিশিরের শব্দ ধ্বনিত হল কর্ণে,
কি যেন একটা বলে গেল সল্পভাষী বর্ণে।
আমি ব্যস্ত ছিলাম শীতের চাদরে,
শীতলায় উষ্ণ আদরে,
স্পষ্ট হয় নি শোনা শিশিরের শব্দ
বুঝেছি তবু, ধরা দিয়েছে
হৃদয়ে ফোটেছে পদ্ম।

ভালবাসার নূতন বীজ হতে 
প্রেমের শিকড় আখড়ে ধরেছে মন,
অনুভূতিতে শিশিরের ছন্দ 
ছুঁয়ে যায় সারাক্ষণ।
অবেগ জাগ্রত প্রণয় জ্বলে উঠে,
শিশির ভেজা প্রতিটি ঘাসে
শৈত্য মনের সবুজ মাঠে।

অসময়ে অবেলা আচকা
কুয়াশার চাদর গাঁয়ে মুড়িয়ে 
হেঁটে যায় প্রেম প্রিয়সী,
আমি দূর হতে তাকে দেখে 
নিজ নয়নে শিশির জলে যাই ভাসি।

অলেখা একটি গল্প

গল্প লিখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত গল্প লেখা হল না
ভাবলাম গল্পের শুরুটা হবে আমার গল্পের আলোকে
শেষের দিক হবে ভিন্ন।

গল্পের মধ্যে থাকবে আমার গল্প, তোমার গল্প,
দুজনের ছোট্ট ছোট্ট ভালো লাগার গল্প,
ভালবাসার গল্প।

গল্পের মধ্যে একটা মোড় থাকবে
সেখানে তুমি হারিয়ে যাবে,
আমি একা হয়ে কিছু সময় কাটাবো
আমি কাঁদবো, ভেঙ্গে সবকিছু চূঁরমার করবো।

তারপর একদিন তুমি ফিরে আসবে
নিজের হাতে মুছে দিবে আমার চোখের অশ্রু।

কিন্তু গল্প তো গল্পোই, 
আমার বাস্তব আমার গল্পের বিপরিত।

নিজের বাস্তব দেখে নিজেরি কান্না পায়
তাই গল্প লিখতে গিয়েও গল্প লেখা হয় না।

স্বীয় অন্বেষণ

আমি মানুষ নই, আমি পশু নই,

মানুষ্যত্ব ও পশুত্ব,
এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থান হলাম আমি।

আমি সব জানি, অথবা আমি কিছু জানি না,
আমি জানতে চাই না, জেনেও জানি না।

মানবতা কি? আমি জানি না, 
হিংস্রতা কি? আমি জানি না।

আমি অন্যের দুখে তার পাশে দাঁড়াই না
আমি অন্যের কষ্টে তার সাথে কাঁদি না
আমি অন্যের সুখে তার সাথে হাসি না
আমি অন্যের আনন্দে নিজের আনন্দ খোঁজি না।

আমি অন্যকে স্বপ্ন দেখাই না
নিজেও স্বপ্ন দেখি না।

আমি ঘুমাই না
ঘুমায় আমার দেহ,
আমি ক্লান্ত হই
ক্লান্ত হয় না আমার মন।

আমার চরিত্র
আমি মন্দ, আমি উত্তম,
আমি দিন, আমি রাত, 
আমি স্বার্থপর, আমি সদাশয়, 
আমি মিথ্যুক, আমি মিথ্যা,
আমি সত্য, আমি সত্তা।

আমি কবি, আমি ছন্দ,
আমি ছাত্র, আমি শিক্ষক,
আমি ধর্ম, আমি কর্ম, 
আমি মেঘ, আমি বৃষ্টি।

আমি কে, আমি কি, 
কি চাই, কি পাই?

প্রশ্ন খোঁজি, উত্তর খোঁজি
নিজেকে খোঁজি।

আমার ভেতর নতুন এক "আমি"কে খোঁজি।

ভালবাসা

সখী ভালবাসা কারে কয়,
ভালবাসা কি শুধু অভিনয়।
ভালবাসা কি শুধু দুই মানব,
নাকি সারা পৃথিবী
যা কিছু আছে সব।
ভালবাসা কি আবেগের বীজ,
নাকি একান্ত সম্পদ, তোমার নিজ।
ভালবাসা কি আকাশের নীল,
কেড়ে দেয় ছিনিয়ে 
হায়েনা শুকুন চিল।
ভালাবাসা কি মিষ্টি কথা
বুকের দীর্ঘশ্বাস,
ভালাবাসা কি দুই পথিকের 
এক পথে স্বর্গবাস।
ভালবাসা কি কবির লেখা 
পাখির ডানার কবিতা,
স্বাধীন আকাশে উড়ে স্বাধীনতা
ভালবাসায় পূর্ণতা।

চাঁদ সূর্যের গল্প

সূর্য লুকিয়েছে আত্নগোপনে 
মেঘের কালো শাড়ীর আঁচলে মুখ ঢেকে।

আর চাঁদ, সেও পাষাণ বড্ড, 
একবারো আসেনা যেখানে সূর্যের সিংসহাঁসন।

মিটিমিটি তারা, তাদের সঙ্গ পেয়েছে চাঁদ,
ভালোই সময় যাচ্ছে তার
একাকীত্ব কী জানেই না হয়ত সে।

সূর্য একা একা আকাশ ছোঁয়ে যায়,
পরিমাপ করে আকাশে 
ভালোবাসার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা।

শীলত নীল জোস্নায় চাঁদ
ভুলে গিয়েছে সূর্যের স্মৃতি।

কিন্তু সূর্য সে প্রাণের উৎস
সূর্যহীন পৃথিবী অন্ধকারচ্ছন্ন বদ্ধভূমি।

তোমার আমার দূরত্ব

অনেক কাছে তুমি 
কিন্তু অনেক দূরে
ঠিক যেন আকাশের চাঁদ।

চোখের দৃষ্টিতে চাঁদ আমার অনেক কাছে
কিন্তু হাত বাড়ালেই অনেক দূরে।

ইচ্ছে হয় চাঁদকে ছুঁই 
আদর দেই মন ভরে
কিন্তু ব্যাপক দূরত্বের পরিধি।

দূরত্ব ঠিক ততটা 
যতটা দূরত্ব দিনের সাথে রাতের।

ক্রমান্নয়ে দূরত্ব আরও বেরেই চলছে,
আমি যত কাছে যেতে চাই 
ততই দূরে সরে যাচ্ছো তুমি।

মৃত্যূর পূর্বে

এই তো আর ক'টা দিন বাকি
তারপর মৃত্যূর সাগরে আমি নৌকা ভাসাবো,
পাড়ি জমাবো যেখানে প্রাণের শেষ।
জীবনের নৌকাকে গাঁটে লাগিয়ে
হাত ধোঁবো জীবনের গোলকধাঁধা হতে।
বেঁচে থাকার বিষাক্ত স্বাদ নিয়ে
আমি একাকী চাঁদ হতে চাইনা,
আমি সূর্য হয়ে সবকিছু জ্বালিয়ে পুরিয়ে দিতে চাই।
তিলে তিলে জ্বলত্ব মোমবাতির মতন নিঃশেষ হতে চাই,
কয়েকটা দিনের জন্য সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাই আমিও জীবন্ত প্রাণী ছিলাম।

আরেকটি ভুলের অপেক্ষায়

ভুল করে হলেও আরেকটি বার ফিরে এসো
আরেকটি বার ডাক দাও আমার নাম ধরে
বল আমি ফিরে এসেছি চিরদিনের জন্য।
বল আর প্রস্থান নয়, 
আজকের পর থেকে শুধু তুমি আর আমি,
কোনো তৃতীয় মানুষ রবে না আমাদের মধ্যে।
আজ হবে শুধু আমাদের দিন,
আমরা রাত্রি জাগবো, কথা বলবো,
আকাশ দেখবো, তারা গুনবো।
নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকবো দুজন দুজনার দিকে,
চোখে চোখ রেখে চোখের ভাষায় কথা বলবো,
ভোর হবে অথচ নিঘুম আমরা দুজন 
রব একে অন্যের প্রেমের ঘুমে।

সুনয়না তুমি একজনা

চোখ তার কথা বলে, কথা বলে চোখের মনি,
চোখের পাতায় পদ্মফুল দিয়ে যায় হাতছানি।
বাতাসে হাঁটে মুগ্ধ সুবাস, কাজলে হাসনাহেনা,
চোখ তার কালো হরিণী, নাম তার চিরচেনা।
সুনয়না নাম দিলাম সুনয়নে তৃপ্ত হয়ে,
নয়ন জোরায় গভীর পিপাশায় তৃষ্ণার্ত মন নিয়ে।
মনের কথা মনেতেই থাক, ভালো থাক সুনয়ন,
শ্রেষ্ঠ হোক তোমাতে কবিতার সব চরণ।
কবিতা লিখি কিভাবে তোমার চোখে রেখে আঁখি,
তোমার চোখের ভাষা আজও পড়ার রয়েছে কিছু বাকি। 
কি আছে লেখা তোমাতে মায়াবী তোমার দু'চোখে,
মনের কথা প্রেমের ভাষায় কি করে বলি আর কাকে। 
যাকে বলি সেও বলে মুগ্ধ তোমার আঁখি,
তাই তোমায় আজিকে কবিতায় লিখে রাখি।
কবিতা আমার বর্ণহীন, ভাষাহীন এক দ্বীপ,
ভালো লাগে মধ্য নয়নে সূর্য লাল টিপ।
ভালো লাগে হাতের চুড়ি ঝন-ঝনাঝন বাজে,
ব্যস্ত আমি কবিতায় তারই রূপের মাঝে।
রূপ তার মুক্ত পাখি উন্মুক্ত কবিতার খাতায়,
মিষ্টি হাসি প্রাণনাশী অনুরাগী কাব্য ভাসায়।

অনাবশ্যক ভালোবাসা

আমি কারো ভালোবাসা চাই না,
আমি চাই না কেউ একজন আসুক আমার জীবনে,
চাই না সে এসে আমাকে ভালবাসুক,
আমাকে জড়িয়ে ধরুক। 

আমার কপালে তার হাত বুলানোর নেই কোনো প্রয়োজন,
নেই অযথা তাকে আমার চুমু দেয়ার প্রয়োজন। 

বিকেলে পথের ধারে একসাথে ফুচকা খাবো, 
অসম্ভব, আমি পারবো না।

প্রেমের মিষ্টি মিষ্টি কথা এইসব অযথা,
ভালো লাগেনা ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলা।

কি দরকার তার মিথ্যে রূপের প্রসংশা করা,
রোজ রাতে ঘুমের ঘোরে তার সাথে দেখা করা।

কি দরকার এইসবের, 
অপ্রয়োজনে রাত্রি জাগা,
তার ভাবনায় জল ঝরিয়ে চোখ লাল করা, 
গুরুত্বহীন যত কর্মকান্ড।

আমি চাইনা এইসবের, 
চাইনা প্রেমের রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকি,
পারবো না শ্লোগান দিয়ে বলি 
ভালোবাসি তোমাকেই।

এইসব আমার কাজ না
আমি কারো প্রেমিক হতে চাই না
কারো ভালোবাসা তাও চাইনা,
আমি একাই নিজের জন্য ভালোবাসা জন্ম দেই,
আমি একাই পারি নিজেকে ভালোবাসতে।

কেন নেবো তাহলে অন্যজনের ভালোবাসা?

দুরূহ বিদায়

চলে যাবার তাগিদে বারবার ফিরে আসি,
চোখের জলে নিজ নয়নে নয়ন ভাসিয়ে হাসি।
তারপরও বলি ভালবাসি দিবা-নিশি,
চন্দ্র-তারার মিলন খেলায় হাসে প্রেম রাশি রাশি।
নব যৌবনে প্রবীন মন শিশুতে রূপ নেয়,
বাদল দিনে মেঘলা আকাশ স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়।
শিশু মন পরে কাঁদে প্রবীন মনের উপদেশে,
নব যৌবনে গভীর বনে আঁধার আসে সর্বশেষে।
হিসাব-নিকাশ করে মন কবিতায় গল্প সাজায়,
মনের কষ্ট পথভ্রষ্ট নষ্ট হয়েছে হায়।
চলে যেতে চায় মন বিছিন্ন লোকালয়ে,
কিন্তু যাওয়া যায় না নিজ নয়নে নয়ন ভাসিয়ে দিয়ে।

ঘুর্ণিপাক

ঘুরছে পৃথিবী, 
ঘুরছে আকাশ,
বাতাস, পাক-পাকালি,
ঘুরছে সবুজ, ঘুরছে বৃক্ষ, 
পশু পক্ষীর কলকাকলী।
ঘুরছে নদী, ডেউয়ের ধারা,
দিন শেষে সন্ধাতারা।
ঘুরছে মাটি, ঘুরছে মন, 
ঘুরছে নকল-নরম-শক্ত-খাঁটি,
ঘুরছে ঘুর্ণিঝড়ে ঘুর্ণিপাকে
যা কিছু যেথায় পরিপাটি।

জীবনের অংক

জীবনের অংক কিছুতেই মিলতে চাচ্ছে না,
জীবনের সমীকরণের ভগ্নাংশকে
কিছুতেই ভাঙ্গা যাচ্ছে না।

ফলাফল কিছুতেই পূর্ণ সংখ্যা হচ্ছে না,
বারবার দশমিক আসছে,
দশমিকের পর আসছে অনেকগুলো সংখ্যা,
পরিমাণে তাদের সংখ্যা অসীম।

আমি তাদেরকে গুণ করি, যোগ করি,
কিন্তু কিছুতেই ফলাফল গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না।
আমি ভাগ করি, বিয়োগ করি
কিন্তু ফলাফল বারংবার অগ্রহণযোগ্য।

আমি বর্গ করি অতঃপর জীবনকে
কিন্তু না, সঠিক ফলাফল যেন আসতেই চাচ্ছে না।

আমি উচ্চতর গণিতের সূত্র, জ্যামিতিক মন্ত্র
সবই প্রয়োগ করি একে একে।

কিন্তু না, ব্যর্থ আমার সকল চেষ্টা,
ব্যর্থ আমি, ব্যর্থ আমার জীবনের অংক।

আমি জীবনের লেনদেনকে
সর্বশেষে জাবেদা বহিতে সাজাই।

জীবনের সব প্রাপ্তিকে
ডেবিট কলামে সাজিয়ে,
জীবনের সকল বির্জনকে
সাজালাম ক্রেডিট কলামে।

কিন্তু না,
পুরনায় আমার জীবনের অংকে গড়মিল।

কিছুতেই জাবেদা বহিতে
দুই পার্শ্বের পরিমাণ সমান হতে চাচ্ছে না,
বরং জীবনে প্রাপ্তির তুলনায়
প্রদানের পরিমাণ বারংবার বেশি দেখাচ্ছে।

প্রেমের অভিশাপ

রাতের পর রাত জেগে থাকি,
রাত আমাকে জাগায়,
আমিও রাতকে জাগাই।

কিন্তু কেন,
আমার সাথে রাতের কি এমন অভিমান?

কেন রাত সমগ্র পৃথিবী হতে 
আমার সম্পর্ক ছিন্ন করে
একা করে দেয় আমাকে অন্ধকারে।

আমি তো কখনোই রাতকে পর ভাবিনি,
আমি বরাবর রাতকে ভেবেছি দিনের অঙ্গ।

ঠিক যেমনটা ভাবতাম 
তোমাকে আমার অঙ্গ,
ঠিক যেমনটা তুমি ছিলে মানুষ
আর আমি ছিলাম তার ছায়া।

কিন্তু কেন রাত আমাকে পর ভাবলো,
কেন রাতের বিষণ্ণতে 
স্বর্গ হতে বেড়াতে আসা ঘুম
বাসা বাঁধে না আমার চুক্ষুদ্বয়ে।

আমি উত্তর খোঁজি উপরোক্ত প্রশ্নাবলির,
আমার ভেতরের গৃহপালিত বস্তু
যাকে আমি অন্তর-আত্মা বলে ডাকি,
সেই গৃহপালিত বস্তু অট্টহাসিতে দেয় উত্তর।

বলে উত্তরে নিদ্রাহীনতার এই কারণ 
নয় সামন্য, নয় তুচ্ছ বিষয়, 
নয় জগৎ-সংসারে অদেখা,
নয় মিহি ভূমিকাময়।

আমি বিশদ বর্ণনা চাই, 
জটিল হতে জটিলতর ভাষা 
বোধগম্য নয় আমার।

গৃহপালিত অন্তর-আত্মা 
তখন হাহাকার করে রুক্ষ স্বরে,
মলিন কণ্ঠে বলে উপসংহারে
এ যে প্রেমের অভিশাপ।

সে অভিশাপে অভিশপ্ত তুমি,
রাত্রির চোখে শাস্তিস্বরূপ 
জাগতে হবে রাতের পর রাত,
জীবনের শেষ রাতেও তোমাকে 
জাগাবে বিষাদের কালো রাত।

কর্মফল

তুমি চলে যেতে চেয়েছো 
আমি চলে যেতে দিয়েছি।

তুমি চলে যেতে বলেছো 
আমি চলে গিয়েছি।।

যা যা বলেছো তুমি 
সব-ই করেছি।

আজ বহুদিন পর
সময় এসেছে হিসেব কষাবার।

বল তুমি কি পেয়েছো, 
উত্তর দেবার সাহস আছে কি তোমার?

আছে কি তোমার কণ্ঠে জোর?
জানি মুখে তোমার নেই কোনো ভাষা
তোমার অভিধানে নেই কোনো শব্দ।

নিঃশব্দ তুমি,
নিরূত্তর তোমার চারিপাশ।

আজ তোমার পতনের দিন
তোমার মত আমারও পতন হয়েছিল
যখন তুমি ও তোমার শর্ত দুটোর সামনে 
আমি নত হয়েছিলাম পরাজিত যোদ্ধার মতন।

আমার ভালবাসার ধারালো তলোয়ার
তোমার চরণে বিলিয়ে দিয়ে
আত্মসমর্পণ করেছিলাম ঠিক তোমার মত
ঠিক এক পরাজিত যোদ্ধার মতন।

আটারোতে প্রথম প্রেম

আটারো বয়স বয়সে 
পড়েছিলাম প্রথম প্রেমে,
সেই প্রেমের অনলে 
জীবন গিয়েছে ঘেমে।
সুমধুর প্রেমের স্বাদে 
অশ্রু ঝরেছে অবিশ্রান্ত,
কেঁদে কেঁদে হইনি কখনো 
কষ্টে পরিশ্রান্ত।

জেগে জেগে রাত কেঁটেছি,
ব্যর্থ প্রেমে দূঃখ পেয়েছি, 
হারিয়েছি যা ছিল,
আটারো বছর বয়সে প্রথম প্রেম 
আঘাত দিয়ে গেলো।

অদ্য আমি পদ্য লিখি 
কান্না নিয়ে চোখে,
উন্মাদ পরিচয়ে আমায় পরিচয়
দিয়েছে ভদ্রলোকে।

লোক বলে আটরোতে 
তুমি করেছো প্রথম ভুল,
সারা জীবন কেঁদে কান্নায় 
দিতে হবে তার মাশুল।

আমি বলি ভুল হয়নি 
আটারো বছর বয়সে,
গর্ব করি অহংকারে 
প্রথমবার ভালবেসে।

ভালবাসি লুকিয়ে আমি
মুছকি হাসিতে হাসি,
কান্না আসা কন্ঠে বলি 
তাকেই ভালবাসি।
দূঃখ নেই তার চলে যাওয়াতে
নেই মনে অভিমান,
ভালবাসতে আমিও পারি 
আটারোতে হয়েছে প্রমাণ।

ডায়েরি

আমার কিছু কথা,
কিছু গবেষণা,
চিন্তা-চেতনা, ভাবনা,
লিখে রাখলাম ডায়েরির পাতায়।
এক সময় আমি মরে যাবো
শুধু বেঁচে রবে স্মৃতি ডায়েরির পাতায়।

বেঁচে রবে অনুভূতি,
অদ্ভূত বিবৃত্তি,
অন্য রকম সত্তা,
বেঁচে রবে মৃত্য লাশ
ভালবেসে যাকে করেছি হত্যা।

দৌড়াবে উক্তিগুলো,
নাচবে, খেলবে, চলবে।
চলবে না অলস কলম
শুধু ডায়েরী কথা বলবে।

প্রিয়জন যত আপন
যত আছে নগরে,
দেশ-দেশান্তর এক হয়ে যাবে
আমার পরাজয় মেনে নেয়ার হারে।

পরাজয় আমি ঠিক-ই মানবো
মানবেনা আমার ডায়েরী,
লুকিয়ে থাক লেখা যত কথা
হারিয়ে যাক মনের শায়েরী।


কে আছে আমার

আমি ছাড়া আর কে আছে আমার
কেউ নাই, কেউ তো নাই,
জগৎ সংসারে কে আছে এমন
যার মধ্যে নিজেকে হারাই।

কে আছে এমন যার সাথে আমি
আপন মনে মিশবো সুখে,
যার চেহারা প্রতিফলিত হবে
আমার প্রতিটি নিয়তির সম্মুখে।

নিয়তি আমার দেয় অভিশাপ
অভিশাপ দেয় সমগ্র পৃথিবী,
সবুজ প্রকৃতির নিঠুর আচরণে
নিষ্টুর একাকীত্ব রাখে নিজের দাবি।

বিষ হয়ত সেবন করিনি কখনো
সেবন করেছি একাকীত্বের স্বাদ,
কেউ নাই আমার, কে আছে আর
যার মধ্যে পাবো নিজের সাধ।

বলা না বলা তোমার কথাগুলো

ঝোঁক বা আবেগের বশে নয়, নয় মিথ্যা ছলনার আশ্রয়ে,
আজ শুধু মনের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষার উন্মেষ সাধনের সাধনায়
চুপটি মেরে শুনবো নির্বাক মুখে 
বলা না বলা তোমার প্রতিটি কথাকে।

একে একে পরখ করবো ভালবাসার প্রকৃতরূপে
গুনে গুনে দেখবো চোখের দাঁড়িপাল্লায়
কেমন হবে ভালবাসার পরিমাণ।

তারপর তীক্ষ্ণতায় প্রতিপাদ্য বিষয়ের সাথে 
অনুমানসিন্ধ সমতার প্রদর্শন ঘটিয়ে 
একাকীত্বের সংকীর্ণতার গন্ডি পার হবো
তোমার কথার পিঠে কথা চেপে।

হোক ভুল মিথ্যে প্রবোধ অথবা দুরুহ ব্যাপার
তবুও পুনঃ পুনঃ শুনবো একে একে 
উড়ন্ত বাতাসে তোমার কথাগুলোকে আজ।

শিকারি হয়ে আঁকড়ে ধরে 
তালাবন্দি করে রাখবো মনের হাল্কা খাঁচায়।

আর যখন তুমি থাকবে না কাছে, আসে-পাশে বা জীবনে
তখন নিজের মনে নিজে প্রবেশ করে 
চুপটি মেরে শুনবো একে একে
তোমার বলা না বলা কথাগুলোকে।