Thursday, 13 August 2015

হে প্রেম

হে প্রেম, তুমি বিনীল কেন মোর হৃদয় পানে
তুমি শুন্য মোর অস্থিত্ব নেই পৃথিবীর কুলখানে
তুমিহীন কঠিন সময় কঠিন দিবস ও রজনী
আঁখিজলে প্লাবন আসে তুমিহীনা ভাসে ধরণী
সময় মায়াময় কায়াহীন প্রতিটি প্রতিছব্বি
হে প্রেম, তুমি ছাড়া লিখবেনা কবিতা অভাগা এই কবি।

তুমিহীন নেই গগনে সরলতার উপমা
ফুলের সৌরভে শুষ্ক ঘ্রাণে জাগে না প্রাণে মোর প্রতিমা
প্রেমহীন একদিন হাজারো রাতজাগা চন্দ্র-তারা
প্রাণের ভিটায় বসতি তোমার, তুমি প্রেম দাও না কেন সাড়া
তুমি বিনা স্বপ্ন বুনা যায় না শিল্পী সেজে
হে প্রেম নেই কেন তুমি মোর অন্তর-আত্মার মাঝে।

তুমি নেই কেন প্রেম, কেন অপূর্ণ জীবনের অভিলাষ
অভিনয়ে জুড়ে তুমি, নেই তবু তোমার জলোচ্ছ্বাস
যতিচিহ্ন হয়ে তুমি থেমেছো মোর আয়ুলগ্নে
একবার তুমি উঠে দাঁড়াও প্রিয় প্রেম 
শুধু কবির কবিতা হবার জন্যে।

কবি মনে হে প্রেম তুমি স্বর্গ অপেক্ষা প্রিয়
অনুগহ কর প্রেম বারংবার দর্শন দিয়ে যেও
কবি কিছু চায় না বিশেষ, না দেহ না রূপ
প্রেমহীন মরণ কবির বীনা বাক্যে সে নিশ্চুপ
প্রলাপে তার হবে না আলাপ, না হবে সংলাপ
হে প্রেম, কবি তোমায় খোঁজে চোখ মুজে 
সঙ্গে নিয়ে একবুক রক্ত গোলাপ।

Sunday, 9 August 2015

শিরোনামহীন:৩

অবিশ্বাস ছিল ভালবাসার কোনো এক সূক্ষ্ণ উপাদানে,
তিক্ততা ছিল প্রতিটি মিষ্টি কথার আবরণে।
ছিল একরাশ এক বুক চলনা,
কেন কোন কারণে প্রেম সাজলো খেলোনা।
আমার আকাশে কি ছিল না চাঁদ,
নাকি ছিল না জ্বলন্ত প্রেমে উত্তপ্ত সূর্যের স্বাদ।

ছিল সবই, ছিল মিটিমিটি তারা, জোনাকি পরীর দল,
অবিরাম ছিল এই জীবনে তাদের চলাচল।
তবু কেন কীসের অভাব দেখা দিয়েছে তোমার চোখে,
কারণ দূরে থাক, অন্তিম বিদায়ে সরলতা ছিলনা প্রেয়সীর মুখে।
আমি নাদান, অবুঝ, ব্যর্থ, নিষ্ঠুর পাথর মন,
মহাআকাশের গায়ে বিলিয়ে দিয়ে চাই কাব্যময় এই জীবন।
তুমি বিহনে আমার গগন চন্দ্র-সূর্যহীন দিবা-নিশি,
তারায় তারায় লিখে রাখি অফুরুন্ত বার তোমাতেই ভালবাসি।

অদৃশ্য কামনা

জীবনের কোনো দোষ ছিল না
জীবন নিষ্পাপ নবজাতক শিশুর মত,
ভোরের আলোতে ঘাসের উপর একবিন্দু শিশিরের মত।
চলার পথে জীবনের নানা রং নানা স্বাদ
একে একে সব বিলিন হয়ে নিঃশেষ হয় ক্রমশ,
তাতে জীবনের কি দোষ, জীবন তো নয় অপরাধী।
তবু কেন সময়ে অসময়ে বিদাতাকে ফাঁকি দিয়ে
দোষ কষি জীবনের কাঁটা গাঁয়ে।
চাওয়া পাওয়ার হিসাব নিয়ে ব্যস্ত চোখের কিছু জল,
মিশে যায় তাতে এক নিমিষে জীবনের  হাহাকার,
আর্তনাদ,  আত্ম-চিৎকার, নিরাশা, বিশূণ্যতা।
অতঃপর হতাশার ছোট্ট লাল পিপিলিকা 
কামড় কেঁটে চলে তুলতুলে কচি দেহে,
যে দেহতে প্রাণ আছে, 
আছে অক্সিজেনের অবিরাম চলাচল
আর আছে আকাশের নীল মলাট ও মৃত্তিকার আবরনের ভেতর 
বিদাতা কর্তৃক প্রদও জীবনের প্রতি একরাশ ঘৃণা, 
অনিচ্ছুক বেঁচে থাকার ইচ্ছা,
মৃত্যূর প্রতি কৌতূহলী অদৃশ্য এক কামনা।

Saturday, 18 April 2015

প্রণয়ে পরিনতি


আমি আগুন ভালবেসেছিলাম
আগুনের উজ্জ্বল লাল শিখা আমার খুব প্রিয় ছিল
আমি বারবার লাল-হলুদের এই জ্বলন্ত শিখাকে জড়িয়ে ধরতে চাইতাম,
কিন্তু ডরালু আমি
ভয়ে কখনো এই দূঃসাহস দেখাতে যেতাম না
মনে মনে দূর থেকে আগুনকে দেখতাম
দূরে থেকে আগুনকে ভীষণ ভালবাসতাম।
কিন্তু ভালবাসা অনেক ভয়ানক এক ব্যাথি
দূর্বলকে করে তুলে সবল
ভীতু কাপুরুষকে গড়ে তুলে সাহসী সৈনিক,
সে সাহসের ফুটন্ত স্পর্দা 
আমাকে নিয়ে গেল আগুনের সম্মুকে,
অতঃপর মনের শঙ্কা দূর করে 
আগুনকে আমি বলেদিলাম ভালবাসি।
আগুন সেও মাথা নেড়ে মেনে নিল আমার ভালবাসা
এবং তার কাছে আসার জন্য তার বাহু মেলিয়ে ডাক দিল আমায়,
আমি আবেগভরা প্রেম নিয়ে 
ভয়ের গন্ডি ডিঙ্গিয়ে ডুব দিলাম তার  জ্বলন্ত লাল অগ্নিশিখায়।
কিন্তু হায়, আগুনের কিছু হল না,
বরং তার প্রেমে তার আগুনে মৃত্যূ হল এই আমার।



Tuesday, 14 April 2015

বাংলা নববর্ষ ১৪২২

বাংলা নববর্ষ মানেই 
নতুনের আগমন,
বাংলা নববর্ষ মানেই 
হৈহল্লোর সারাক্ষণ।
বাংলা নববর্ষ মানেই 
নতুন করে বেঁচে থাকা,
পুরনো দেনাদেনা বন্ধ করে 
শুরু হবে নতুন হালখাতায় লিখে রাখা।
চারুকলার হাত ধরে 
বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা,
পহেলা বৈশাখে সর্বকুলে 
বৈশাখী আনন্দ বার্তা।
উৎসব কলরব 
সাথে প্রেম ও রঙ্গের উড়াউড়ি,
সুন্দর হতে অতিসুন্দর 
বৈশাখে নর-নারী।
বালুচলে বাঁধবে নদী 
নতুন করে হবে পথ চলা,
নতুন করে যায়াবর জীবনে 
আসবে সকালবেলা।
বাতাসে ডানা মেলাবে 
আমের মকুলের ঘ্রাণ,
কাঁঠাল গাছে ছোট্ট কাঁঠাল 
মাতাবে সবার প্রাণ।
ঝর আসবে তবুও মনে 
বিষাক্ত কাল বৈশাখী,
থেমে রবে না তার ভয়ে 
মূখভরা হাসি-খুশি।
সেই খুশিতে মাটির পাত্রে 
পান্তা-ইলিশ হবে রান্না,
জাগবে বুকে নতুন করে
ষোলা আনা বাঙ্গালীয়ানা।


Saturday, 11 April 2015

কবিতার মৃত্যু

একটি কবিতার আজ মন খারাপ
আরেকটি কবিতা তাই দূঃখী,
তৃতীয় আরেক কবিতা দূরে থাকে, সে ভাবে
হয়ত প্রথম দুই কবিতা আজকে ভীষণ সুখি।
প্রথম কবিতা ছন্ধ খোঁজে
দ্বিতীয় কবিতা দাঁড়িয়ে থাকে তার পাশে,
তৃতীয় কবিতা নিরবে কাঁদে
অশ্রু ঝরায়, আর সুযোগ পেলে হাসে।
প্রথম কবিতা কথা বলে
দ্বিতীয় কবিতা সেই কথা শুনে,
তৃতীয় কবিতা নিজ কল্পনায়
প্রথম কবিতার সাথে কাটানো দিন গোনে।
প্রথম কবিতা রাত্রি জাগে
দ্বিতীয় কবিতার সাথে প্রেম যেন তার,
তৃতীয় কবিতা তারও নেই ঘুম
বুকতে শুধু প্লাবন ও হাহাকার।
প্রথম কবিতা বিয়ে করে
দ্বিতীয় কবিতার সাথে হয় বাসর,
তৃতীয় কবিতা মৃত্যুর সাথে
ভাসিয়ে দেয় জীবনের খেলাঘর।

অচেনা সময়

আকাশের বৃষ্টিতে মিশে গেল আমার দু'ফোঁটা চোখের জল,
আলোতে দেখি না নিজেকে, অন্ধকারে দেখি নিজের চলাচল।
পাখির ডানায় স্বপ্ন উড়ে আকাশের নীল বুকে,
নিরবে হারিয়ে ফেলি অশ্রু যত আছে দু'চোখে।
ভাষায় বলা যায় না লিখে মনের ফ্যাকাসে অনুভূতি,
গল্প-কবিতায় মিশে আছে সব পুরুনো সকল স্মৃতি।
যা হারিয়েছি তাতে নেই আক্ষেপ জীবনের কোন স্বাদে,
হারিয়ে তোমাকে ভাবিনি কখনো নয়ন ভিজাবো অপরাধে।
পায়ের নিচে মাঠি নেই এমন এখনকার চলছে সময়,
আমি জানি, জানতাম তখনোও তুমি ছিলে আমার নয়।
সে কি ছিল অপরাধ আমার, প্রেম কি তবে ভুল,
নিষ্পাপ ভালবাসা রোজ প্রভাতে বাগানে ফোটা ফুল।
কোকিলের কুহু ডাক, বসন্তের হাওয়া,
সবকিছু শুণ্য যেন তুমি নেই তাই পাথর বুকে জাগে না সেহ্ন মায়া।
চোখের পলকে পাল্টালো জীবন, চোখের পলকে নরখের দেখা,
সে নরখে জ্বলি প্রতিদিন, আগুনের শিখা গোনি বসে একা।
নিজের ভাগ্য লিখার বসনা নিয়ে কাগজে লেখি নিজের পরিচয়,
তোমার সেই প্রেম আমি, যে আজ তোমার অচেনা সময়।

রাত্রীর যাত্রী

অগণিত রাত জেগেছে আমার দু'চোখ
অন্ধকারকে দেখেছে অনেক কাছ থেকে
অন্ধকারের গন্ধ কিছুটা পোড়া বর্ণের
যেন আগুনে জ্বলে যাচ্ছে কিছু একটা,
নিঃশ্বাসে প্রায়ই রাতে পাই এই পোড়া গন্ধ
অনুভব করি বুকের বা'পাশ হতে আসছে এ গন্ধ
এই গন্ধের গাঢ়তায় আমার চোখ খুব কষ্ট পায়
চোখের হয়ত মন খুব নরম
সে কান্না সামলাতে পারে না,
জল বেয়ে পড়ে আমার গালের উপর দিয়ে
আমার হাত সেও বড্ড লাগামহীন
মোটেও স্থির রতে চায় না
যতবার চোখের কান্না আসে
ততবারই হাত চোখের জল মুছে দেয়,
অন্য কাওকে অশ্রুটুকু 
দেখার সুযোগ সে দিতে চায় না।
আমার ধারণা হয়ত চোখের জন্য 
হাতের খুব মায়া 
তবে আমার মুখ সে খুব শান্ত
সে কখনো মুখ ফোটে আওয়াজ দেয়না
হৃদয় ভেঙ্গে চুর-চুর হয়ে যায় 
তবুও সে নিরব থাকে,
সে জানে তার হাহাকারের চিৎকারে
ঘুমন্ত শহরের ঘুম ভেঙ্গে যাবে
ঘুমের মর্ম সে বুঝে
ঘুম সোনার হরিণ
সবাই তাকে পায় না।


বঙ্গবন্ধু

তুমি সূর্য মানব

স্বাধীনতার উজ্জ্বল দ্বীপ্ত প্রদীপ,

তুমি বাংলার বুকের দীর্ঘশ্বাস

সবুজের মাঝে লাল ছায়া ।

 
তুমি একাত্তের বজ্রকণ্ঠ

নিরস্ত্র বাংলার মানুষের অস্ত্র,

তুমি পদ্মা মেঘনা যমুনার জল

তুমি কর্মঠ যুবকের বলিষ্ঠ মাংসপেশী

কৃষকের সুবর্ণ আশার দল ।


তুমি নতুন প্রজন্মের পথ প্রদর্শক

বিদ্রোহী চেতনা,

তুমি অসীম আকাশ

সবুজ-শ্যামল বাংলার বাতাস,

বাংলার অস্থিত্ব

মোদের প্রাণ, মোদের আর্দশ

মোদের রাষ্ট্রপিতা

মোদের শেখ মুজিবুর রহমান ।

শ্যামল বালিকা

বালিকা তোমার শ্যামল বর্ণ 
স্বর্ণ অপেক্ষা প্রিয়,
তোমার শ্যামল হতে কিছু শ্যামল 
আমায় দিয়ে দিও।
তোমার শ্যামলে থাক না ডাকা 
কালো মেঘের দল,
সাদা চাঁদের রাতের আঁধারে 
তুমি প্রিয় শ্যামল।
রাতের কালোতে ভয় লাগে 
প্রণয় না জাগে বুকে,
শ্যামল বর্ণের চুইড় পাখি 
বাসা বেঁধেছে চোখে।
চোখে মুখে স্বর্ণ তার 
শ্যামল বর্ণের আভা,
লোক বলে স্বর্ণ সোনালী 
ঠিক যেন অগ্নিলাভা।
আমি বলি মিথ্যে সব 
লোকের মুখের প্রলাপ,
শ্যামল প্রিয়, নয় সোনালী
নয় গোলাপী গোলাপ।
শ্যামল সুন্দর, শ্যামল প্রিয়
শ্যামল হয় নারী,
শ্যামলতায়ও ভূ-লোকে 
বিরাজমান অপ্সরী।

আশঁসা

ভালবাসায় আমি 
বাঁধিয়া রেখেছিলুম যারে,
বুঝি নাহি আগে 
সে তাহার মনে ভালবাসিত কারে।
তাহার অন্ধ প্রেমে আমি মগ্ন হইয়া 
ভঙ্গ করিয়াছি নিয়মের সিঁড়ি,
কিন্তু সে বুঝে নাহি মোর প্রেম
প্রয়াস করে নাহি জানিতে 
কি আছে মোর হৃদয় ছিঁড়ি।
যদি সে দেখিতো একবার
দেখিতো গহীনে তারই মখমন্ডল,
আমার আগেই ভালবাসি বলিয়া 
আমায় বলিতো চল।
নিয়া যাইতো দিবাস্বপ্ন 
বাস্তব করিবার তাগিদে,
আমিও রাজি তাহার সঙ্গে 
চলিয়া যাইতে চাঁদে।

কবির গর্ভ

আমার গর্ভে কবিতার জন্ম হয়েছিল
কলমের কালিতে জেগেছিল প্রসব ব্যথা 
ব্যথা সইতে না পেরে আমি রচনা করেছিলাম
সুদীর্ঘ সুপ্রশস্ত সুবিন্যাসিত কবিতার সুবাক্য,
উপমা ছন্ধ প্রবন্ধ স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ
সব একাকার হয়ে মিশে গিয়েছিল আমার হৃদপিন্ডের সাথে। 
আমি মনের গভীর অনুভূতি কালো স্মৃতি
সাদা রঙ্গের উক্তি হলুদ বিবৃতি সবাইকে 
একে একে দিয়েছি ফ্যাকাসে কাগজের আকাশে স্বীকৃতি,
নিন্দ্রাহীন আমার রাত, মেঘের আঁচলে মুখ বাধা দিন 
কবিতার গন্ধে বকুলতলায় রেখেছিলাম প্রিয় প্রথমার ঋণ,
প্রথমা সে এক রহস্যময়ী নারী
যার হস্তশিল্পের কারুকাজে চিরবিজয়ী আমি
অহং মনের সিংহাসনে উচ্চ পদবি আমার
চিরবিরাজমান চিরসত্য লেখনি পরিচয়
স্বর্ণাক্ষরে গাঁথা আমার কাব্য সাহিত্য।
আমি ছিলাম তুচ্ছ, 
অসচ্ছ পচনশীল শীলায় তৈরী মানব
যার প্রসব বেদনা উঠেছিল গর্জে 
ফলস্বরূপ গগণ কিণানায় ভেসেছিল কবিতার মুখ
নবজাতক কবিতা কচি পায়ে হেঁটে হেঁটে
রাজ করেছে অসংখ্য সাহিত্য প্রেমিকের বুকে,
কারো মনে পরিচয়ে সে প্রেম
কারো কাছে আবেগের খেলাঘর
কারো জগতে সর্বকিছু 
যেথার কবির প্রসব ব্যথা অনৈশ্বর অমর।
কবি সে নয় পুরুষ, নয় সে নারী লিঙ্গ
সে শুধু মানব আকৃতিতে স্রস্টার প্রতিবিম্ব,
ধরার বুকে সে ধরে রাখে লাগামহীন মায়াকান্না
প্রসব ব্যথায় স্পর্শিত মায়ের সখা
পিতার মিত্র, জগতের মিতা,
সে জননী জনক উভয়ই 
তার সন্ত্রান তার অঙ্কুরিত কবিতামালা।

নারী ২

নারী তোমার রূপের মূল্য কতখানি
আমি তা জানি, আমি তা জানি
কারণ আমি কবি, আর তুমি নারী।

তুমি নারী বলেই আমি কবিতা লিখি,
তুমি নারী বলেই তোমাতে আমি 
প্রতীমা দেবীকে দেখি।

তুমি নারী বলেই আমি পূঁজারী
তোমার অগ্নিঝরা রূপের মন্দিরে
পূঁজো করি তোমার রূপের
পা হতে কেশ পযর্ন্ত সজ্জিত রাখি ফুলে,
ভাবনা যত দিয়ে যায় দেখা
তোমার অপ্সরী চোখের চলে।

ভাবি কবি মনে 
নারী তুমি,
নাকি স্বর্গের দেবী,
নাকি মানবী তুমি কবিতা
অথবা ইশ্বরের প্রতিচ্ছব্বি।

মাতৃভাষা

অস্ত্র হাতে রক্ত মেখে যুদ্ধ করেছি মোরা,
দেশ মাতার মুক্তি মোদের জীবন দিয়ে গড়া।
স্বাধীনতার স্বপ্ন মোদের মনের প্রিয় সুখ,
যখন দেখি প্রাণ ভরে যায় বাংলা মায়ের মুখ।
মায়ের কোলে মাতৃভাষায় মা বলে ডাকি,
মাতৃভূমির বক্ষ মোদের রক্তে মাখামাখি।
রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে রেখেছি দেশের মান,
লাখো শহীদের বিনিময়ে আজ বাংলা মোদের প্রাণ।
বাংলা মোদের কণ্ঠস্বর, মোদের মুখের ভাষা,
বাংলা মোদের নিত্য দিনে বেঁচে থাকার আশা।
বাংলা মোদের ছেলেহারা মায়ের হাহাকার,
পিতাহারা ছোট্ট শিশুর আর্ত চিৎকার।
বাংলা মোদের স্বামীহারা বোনের সাদা শাড়ী,
অমর একুশে ফেব্রুয়ারীতে তাদের স্মরণ করি।